দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা বলেছেন, ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে কি না, তা নির্ভর করবে তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করছে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত কিছু হামলা বাতিল করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই পক্ষের আলোচকরা ‘একটি চমৎকার সমঝোতায়’ পৌঁছেছেন এবং খুব শিগগিরই চুক্তিটি সই হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
গত এপ্রিলে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরবর্তী সময়ে একাধিকবার পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। চলতি সপ্তাহেও উভয় পক্ষ দুই দফা হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার ইরানি গণমাধ্যমে একটি ১৪ দফা চুক্তির বিবরণ প্রকাশ করা হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হওয়া শর্তগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।
এর কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে।
সম্ভাব্য চুক্তির মূল লক্ষ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা। তবে এ আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নিচ্ছে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর সদস্যদের মধ্যে চুক্তির সর্বশেষ শর্তগুলো নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। আপাতত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। এর বিনিময়ে ইরানের নৌপরিবহনের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। এসব পদক্ষেপ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর শুরু হবে ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়া। ওই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার ফলাফলের ভিত্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস করা হবে এবং পরে তা দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানকে আগাম কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। বরং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া সম্ভাব্য চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই সমঝোতা কোনো বিশ্বাসের ওপর নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যে বর্তমানে সতর্ক আশাবাদ দেখা গেলেও চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এমএস/